Five Hostelites(in Bangla)

বন্ধু চল  …………যাই ফিরে

 হাত ধরে……….. সেই দেশে

 কল্পনার সেই প্রজাপতি

 মেলুক ডানা আবার নতুন করে

 স্বপ্নের দেশ থেকে প্রজাপতির ডানায় ভর করে ফিরে এলাম বাস্তবে. জানি আর ফিরবে না ফেলে আসা ময়ূরের  মত পেখম খুলে নাচার দিনগুলি, ফিরে আসবেনা হোস্টেলে সেমিস্টারের আগে রাত জেগে  পড়ার দিনগুলো বা সেমিস্টার এর পরের সিনেমা দেখে রাতজাগা দিনগুলি, ভৌতিক সিনেমা দেখে  ভয় এ দলবেঁধে খাবার জল আনার জন্য এক  ফ্লোর থেকে অন্য ফ্লোরে যাওয়া. 

 আজ যাদের কথা বলবো তাদের নিয়ে একটা গল্প যথেষ্ট নয়. হাজার স্মৃতি হাজার গল্প যাতে জড়িয়ে আছে বন্ধুত্ব আর মান অভিমান.জীবনে তো কত বন্ধুর সাথে দেখা হয়  কাউকে মনে হয় প্রথম দেখাতে আমার বেস্ট ফ্রেন্ড আবার কারো সাথে খুব মিষ্টি ভাব না থেকে কুনসুটি  থাকলেও কখনো মনে হয় হয়তো জীবনে এই বন্ধু না হলে জীবনটা পূর্ণহত না. আজ শোনাবো তেমনি   সব বন্ধুদের গল্প. জানি বন্ধুত্বে নো থ্যাংকস নো সরি. কিন্তু সত্যি কথা বলতে অনেক কিছুতেই আমি ঋনি এই সব বন্ধুদের কাছে. বিন্দু বিন্দু করে আমাদের মাঝে যে সিন্ধু গড়ে উঠেছে আজ  তার কিছু অধ্যায় তুলে ধরতে চাই. 

 আজ থেকে প্রায় এক যুগ আগে সালটা ছিল 2004. সদ্য  তখন পাশ করে বেরিয়েছি স্কুল থেকে তখন   একটাই লক্ষ্য  কি করে জীবনে প্রতিষ্ঠিত হব. সত্যি বলতে জীবনে কোনদিন ইঞ্জিনিয়ার হবার ইচ্ছে ছিল না কিন্তু ভাগ্যের চাকা ঘুরে গেল সেদিকে. সিলেক্ট হলাম জয়েন্ট এন্ট্রান্স পরীক্ষায় ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে ভর্তি হবার জন্য.  রোজ রোজ বাড়ি থেকে যাওয়া আসা করতে পারব কি পারব না ভেবে বাবা হোস্টেলে থাকাটাই বেশি ভালো হবে বলল. সত্যি বলতে তখনো ভাবি নি আমি কলকাতার বাইরে কোন কলেজে ভর্তি হব. এটা নাকি আমার হাতে কোন অপশন ছিল না, বলা যায়  তাদের মত কিছু বন্ধু পাবো বলেই চললাম সেই রাঙ্গামাটির দেশে শহর ছেড়ে  স্বপ্নের সৈকতে.

 দেখতে দেখতে চলে এল কলেজ সিলেকশনের দিন.আমি আর দিদা সকালবেলা উঠে চললাম কলেজ সিলেক্ট করতে. অনেক কলেজের কথা মাথায় থাকলেও কোথায় যাব ঠিক ছিল না. নির্দিষ্ট জায়গায় পৌঁছে দেখি জনসমুদ্র. নতুন স্বপ্ন নিয়ে এক ঝাঁক পায়রা. আমার  রোল নাম্বার আসবে সেদিন এর শেষের দিকে. প্রতীক্ষার পালা তো আর ফুরোয় না.   তেমন একসময়ে পরিচয় হলো একটি মেয়ের সাথে.তার নাম   রিংকি. কিছুক্ষণ কথা বলাতেই বিশাল বন্ধুত্ব. জানলাম  ওর নাম্বারটা আসবে আমার পর. কথা বলে জানতে পারলাম সেও ইঞ্জিনিয়ারিং টা হোস্টেল থেকেই পড়বে. সে জানালো ড্রিম ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি  (DIT) বলে ফুলবনি তে এক সেমি গভমেন্ট কলেজ আছে, যেটা ভালো আর খরচা টাও বেসরকারি কলেজের থেকে কিছুটা হলেও কম. সেই খবরটা দেবার জন্য আমার সেই বন্ধুকে অজস্র ধন্যবাদ. 

 যথারীতি আমি  সিট বুক করলাম কম্পিউটার সাইন্স ডিপার্টমেন্ট অফ  ইঞ্জিনিয়ারিং DIT তে. অতি আনন্দিত চিত্তে আমার সেই বন্ধুর পাশে এসে  বসতে রিংকি. জানালো কর্নাটকে গভমেন্ট কলেজের তখনও একটি সিট খালি আছে. অতি বিস্ময়  এ তাকিয়ে রইলাম তার দিকে. আমার কাছে কলকাতার বাইরে যাওয়াটাই অনেকটা চ্যালেঞ্জের তাতে ওয়েস্টবেঙ্গলের বাইরে যাওয়া অসম্ভব.  আজও জিজ্ঞেস করতে ইচ্ছে করে কেন সেই লুকোচুরি ?কিন্তু নিয়তি তাকে নিয়ে এলো  DIT তে. সেই বন্ধুটির রোল নাম্বার আসার আগেই একটি ছেলে বুক করে নিল কর্নাটকের সেই গভমেন্ট কলেজের সিট.ব্যাস ক্ষনিকেই সব ভুলে গেলাম আবার ঠিক হলো একসাথেই হোস্টেলে রুম বুক হবে. যথারীতি পরিকল্পনা অনুযায়ী নির্দিষ্ট দিনে আমাদের ট্রেন ছুটলো গন্তব্যের দিকে. তখনো আমার বন্ধু  দোনামোনা ছিল DIT আসবে কি আসবে  না.

 দিদার সাথে কোথাও গিয়েছিলাম ঠিক মনে নেই, ঘরে এসে শুনলাম ল্যান্ডলাইনে ফোন করেছে একটি মেয়ে. পরিচয় বলেছে সে ও UIT  তে ভর্তি হয়েছে. আমি ফিরে এলে যাতে ওর সাথে যোগাযোগ  করি. ফোন করতেইমিষ্টি গলার আওয়াজ কানে  এল. সংক্ষেপে জানতে পারলাম সে  বেহালাতে থাকে নাম মানি. আরো জানতে পারলাম DIT লেডিস হোস্টেলে কোন জায়গা নেই ,আমাদের বছরের মতো এতো মেয়ে আগে এখানে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তে আসেনি. তাই আমাদের থাকতে হবে ড্রিম ইউনিভার্সিটি হোস্টেল এর ক্যাম্পাসে. সেখানে নাকি টিচারদের জন্য একটি নতুন  কোয়াটার নেয়া হয়েছে. যার নাম DTH (    ড্রিমস টিচার্স হোস্টেল). ঠিক হলো দুজনে একসাথে রুম নেব কিন্তু তাতেও এক সমস্যা DTH হোস্টেলে কোন  গার্ড নেই, নিচে দুজন  থাকেন একটি ইউনিটে আর বাকিগুলো দেয়া হবে স্টুডেন্টদের জন্য, উপরে শুধুমাত্র এক ম্যাডামের ফ্যামিলি থাকে বাকিটা পুরোটাই  খালি.যদি কেউ ফাস্ট টাইম যায় তো অনেকটা অলৌকিক কাহানি তে লেখা ভুতের দালান বাড়ির মত অনুভূতি আসবে. তাই সহজে কোন ছাত্রীর রাজি হচ্ছিল না, সবাই ভাবছিল কে আগে থাকা শুরু করবে.   এরমধ্যে কলেজের সেশন স্টার্ট হয়ে গিয়েছিল তাই খুব বেশি দেরী করা উচিত নয়. এই সমস্যার সমাধান হল আমার  পথপ্রদর্শক আমার শুভাকাঙ্ক্ষী দিদার কাছ থেকে.  দিদা জানাল  প্রথম সপ্তাহ আমাদের সাথে  DTH  এ থাকবে.  তারপর দিন ঠিক করা হলো হোস্টেলে যাবার.

 এর আগেও অনেকবার কথা বলেও কখনো দেখা হয়নি আমার মানির সঙ্গে. ঠিক হলো কাকুর সাথে গাড়ি করে আসবে  মানি আর বেহালা  ম্যানটন থেকে আমাদেরকে নিয়ে গাড়ি ছুটবে  গন্তব্যের লক্ষে. পূর্ব নির্ধারিত দিনে আমরা পৌঁছালাম   ফুলবনি তে. গিয়ে দেখে হোস্টেলটি শহরের কোলাহল মুক্ত পরিবেশে.  হোস্টেলের রুম বুকিং টা আমার  বন্ধু আগেই করে রেখেছিল.  ফার্স্ট  ইউনিট  আমাদের জন্যই  বরাদ্দ হলো.আগেই বলেছি এটা  হোস্টেল ছিল না এটি ছিল একটি টিচার্স কোয়ার্টার. তাই বেশ ভালই লাগলো. দুটো রুম কিচেন বারান্দা আর বাথরুম নিয়ে এক একটি ইউনিট, আর তাতে চারজন করে স্টুডেন্ট. ইউনিট থেকে বাইরে বেরিয়ে কমন এরিয়াতে  এলেই দেখা যেত বিশাল  এক ঝিল. নাম-না-জানা গাছের এক অজানা রাজ্য. ওখানে বেরোলে মনে হবে কোন বিস্তৃত অরন্যের মাঝে এসে পৌঁছে  গেছি.কোয়ার্টারের সামনে টাও ছিল নিরিবিলি. কাঁচা রাস্তা দিয়ে কিছুদূর গেলে ছিল  ড্রিম কলেজের লেডিস হোস্টেল. হোস্টেল ক্যাম্পাস ছিল বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে. গাছের ছায়া আর পাখির কলকাকলিতে পূর্ণ শহরের কোলাহল মুক্ত এক  নৈসর্গিক সৌন্দর্য. 

 বিকেলবেলা সবকিছু ঠিক করে দিয়ে কাকু কলকাতার উদ্দেশে রওনা  দিলেন. কিন্তু সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসতে আসতে পরিস্থিতি টা যেন একটু অন্যরকম  হয়ে এল. গোধূলি লগ্নে গাছগুলোকে মনে হতে লাগল যেন বিশাল আকার দৈত্য কোন মুহূর্তে দলবল নিয়ে একসাথে  আক্রমণ করবে. মানি, দিদা আর আমি সারাক্ষণ একই রুমে বসেছিলাম.  নড়চড় করতেও যেন ভয় লাগছিল. কলেজ কর্তৃপক্ষ আগেই জানিয়ে দিয়েছিল DIT হোস্টেল থেকে খাবার শুধুমাত্র রাতের বেলাতেই আসবে  দিনের বেলা আমাদেরকে হোস্টেলে গিয়ে খেতে হবে. সেই হোস্টেলে খাবার শুরু হয় রাত 8:30 তে তাই আমাদের  খাবার রাতের 8 টায় আসবে. রাতের আটটা মনে হচ্ছিল যেন মাঝরাত. রাতের   9 টা তে খাবার শেষ করে ঘুমিয়ে পড়লাম নতুন আগামীর স্বপ্ন নিয়ে.

To be continued….

About the Author

Leave Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *